সিলেটের গোয়াইনঘাটে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু,পরিবারের দাবি পরিকল্পিত হত্যা

 

সিলেট প্রতিনিধি::
সিলেটের গোয়াইনঘাটে মাছুমা নামের এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহের জের ধরে নিজ ঘরে বিষপান করে আত্মহত্যা করেছেন বলে স্বামীর বাড়ির লোকজন অভিযোগ করছেন। অপর দিকে তাদের এ দাবি প্রত্যাখ্যান করছে নিহতের মা ও ভাইয়েরা। তাদের দাবি নিহত গৃহবধূ মাছুমাকে স্বামীসহ তার নিকটাত্মীয়রা পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরুদ্ধ কিংবা শারীরিক নির্যাতন করে হত্যা করে মুখে বিষ ঢেলে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছে।
শুক্রবার বেলা ৩টায় গোয়াইনঘাটের ৮নং তোয়াকুল ইউনিয়নের লাকিগ্রামের স্বামীর বাড়িতে বিষপান করা অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৯টায় তাঁর মৃত্যু ঘটে।
নিহত গৃহবধূর নাম মাছুমা বেগম (২২)। তিনি উপজেলার ৮নং তোয়াকুল ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের আব্দুন নুরের মেয়ে এবং লাকী গ্রামের সোহেল আহমদের স্ত্রী। নিহত মাসুমা ও সোহেল আহমদ দম্পতির শাহরিয়ার নাফিজ জয় নামের ৬ বছরের এক পুত্র সন্তানও রয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী জানান, নিহত মাসুমা ও স্বামী ও তাঁর পরিবারের লোকজনের মধ্যে পারিবারিক কলহের নেপথ্যে এলাকায় নানা কানাঘুষা চলে আসছে। এ কারণে স্বামী সোহেলের সাথে প্রায় প্রতিদিনই বাকবিতণ্ডা, ঝগড়াঝাঁটির ঘটনা লেগেই থাকতো।
নিহত মাছুমার মা আফিয়া খাতুন জানান, আমার মেয়ে বিষপানে আত্মহত্যা করেনি, তাকে নির্যাতন করে মেরে তারপর মুখে বিষ ঢেলে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রচার করা হচ্ছে। আমি প্রশাসনের কাছে এর ন্যায় বিচার চাই।
মাছুমার মামাতো ভাই মঞ্জুর আহমদ বলেন, আমাদের বোনকে বেধম মারপিট করে হত্যা করা হয়েছে। তারপর তারা ঘরের ভিতরে আটকে রেখে মুখে বিষ ঢেলে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রপাগান্ডা চালিয়েছে। তার গলাসহ গায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। নাক, মুখ দিয়ে প্রচুর রক্ত বেরিয়েছে। আমরা মামলার প্রস্তুতি নিয়েছি। আমি নিশ্চিত মামলা দায়েরের পর পুলিশি তদন্তে পরিকল্পিতভাবে যে এ খুনের ঘটনা ঘটিয়েছে তা জানা যাবে। আমি অবিলম্বে এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে আইনি উদ্যোগ নিতে থানা প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানাই।
সালুটিকর তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর রাজিউল্লাহ জানান, বিষপানে একজন গৃহবধূ মারা গেছেন এমন খবরে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে লাশের ছবি তুলে চলে আসি। সুরতহাল রিপোর্টসহ বাকী প্রক্রিয়া সদর থানার পুলিশ সদস্যরা করেছেন। তবে বিষয়টির তদন্ত চলছে। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সোহেল, জিয়া উদ্দিনদের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের ব্যবহৃত মোবাইলফোনও বন্ধ রয়েছে।
গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল জলিল জানান, তোয়াকুল লাকি গ্রামে গৃহবধূ মাছুমার মৃত্যুর ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে তাঁর পরিবার ও আত্মীয়স্বজনরা অভিযোগ দিতে আসছেন বলে আমাকে অবহিত করেছেন। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে। আজও ঘটনাস্থলে আমার পুলিশ অফিসার পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু বাড়িতে কোন পুরুষ ব্যক্তি নাই।
তিনি আরও জানান, গৃহবধূ মাছুমার মৃত্যুর এ ঘটনার পরপরই নিহত মাছুমার স্বামী সোহেল, ভাসুর জিয়া, শ্বশুর আব্দুর নুরসহ বাড়ির পুরুষরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *