সাতকানিয়ায় ইফতার সামগ্রী নিতে এসে পদদলিত হয়ে প্রায় ৯জন নারী নিহত,আহত অর্ধশতাধিক

 

মোস্তাফিজুর রহমান,চট্টগ্রাম :চট্টগ্রামের সাতকানিয়াস্থ নলুয়া ইউনিয়নে আলহাজ্ব শাহজান সাহেবের বাড়িতে যাকাত নিতে এসে পদদলিত হয়ে প্রায় ৯জন নারী নিহত ও অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন।

১৪ই মে রোজ সোমবার আলহাজ্ব শাহজান সাহেবের নিজ বাড়িতে ইফতার সামগ্রী বিতরণ কালে ভীড়ের মধ্য উক্ত দূর্ঘটনাটি ঘটে।

জানা যায়,চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ৩নং নলুয়া ইউনিয়নের পূর্ব গাটিয়াডেঙ্গায় কেএসআরএম গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আলহাজ্ব মোহাম্মদ শাহজাহান সাহেবের নিজ বাড়ীতে তাঁর নিজস্ব উদ্যোগে প্রতি বছরের ন্যায় এই এবছরেও রমজান উপলক্ষে দুস্থদের মাঝে ইফতার সামগ্রী ও শাড়ী-লুঙ্গি যাকাত বিতরন সকাল ৮ ঘটিকা হতে শুরু হয়।যাকাত গ্রহণের উদ্দেশ্যে সাতকানিয়া থানাসহ পার্শ্ববর্তী থানা ও জেলা বান্দরবান, কক্সবাজার সমূহ হতে গতকাল গভীর রাত থেকে আলহাজ্ব মোহাম্মদ শাহজাহান সাহেবের বাড়ীর বাইরে তাঁর নিজস্ব মাদ্রাসা ও মসজিদ মাঠে যাকাত নিতে আসা লোকজন জমায়েত হতে থাকে। যার সংখ্যা অদ্য সকালে ৩৫/৪০ হাজারে দাড়ায়।

এই যাকাত কর্মসূচীতে অতিরিক্ত ভীড়ের মধ্যে নিহত হন যাকাত নিতে আসা ৯জন নারী,আহত হন অর্ধশতাধিক।যাদেরকে দূর্ঘটনা সংগঠিত হওয়ার সাথে সাথে স্থানীয় স্বাথ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীর সূত্রে জানা যায়,যাকাত নিতে আসা মানুষের অতিরিক্ত ভীড়ের মধ্যে পদদলিত হয়ে ৯জন নারী নিহত হন এবং অনেকই আহত হন।যাকাত নিতে যাওয়া বেশ কিছু লোকজন থেকেও জিজ্ঞাসাবাদে অনুরুপ মন্তব্য পাওয়া যায়।

সাতকানিয়া থানা পুলিশের এক বিবৃতিতে জানা যায়, প্রচন্ড রোদ ও ভিড়ের মধ্যে শ্বাসরোধ ও হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে যাকাত নিতে আসা ৯ নারীর মৃত্য হয়।

নিহতরা ৯জন নারী হলেন ১/হাসিনা আক্তার(২৭) স্মামী মোঃ ইসমাইল গ্রাম খাগরিয়া চৌধুরী পাড়া ২/ রিনা আক্তার (২৫) মোঃ হাসান দক্ষিণ ঢেমশা হাঙ্গর পুল ৩/ রশিদা আক্তার(৩২) স্মামী নুর হোসেন গ্রাম চর খাগরিয়া ৪/ টুনটুনি আক্তার(১৫) পিতা মোঃ সালাম কলাউজান ৫/ শাকি আক্তার (২২) স্মামী মিন্টু উত্তর ঢেমশা ৬/ জুসনা আক্তার(৩৫) স্মামী আবদুল হাফেজ গ্রাম কলাউজান ৭/ নুর জাহান(২৭) স্মামী মোঃ শফী গ্রাম কলাউজান ৮/ আনোয়ারা বেগম(২৩) স্মামী নুরুল ইসলাম গ্রাম দোহাজারী ৯/সাকি(২২)পিতা মোবারক হোসেন উত্তর ঢেমশা সাতকানিয়া প্রমুখ।এছাড়াও আহত হন অনেকই।স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাসলিমা আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) এ কে এম এমরান ভূঁইয়া জানান, ৩০-৪০ হাজার মানুষ ইফতার সামগ্রী নিতে ওই বাড়িতে ভিড় করে। চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও কক্সবাজার জেলা থেকে লোকজন সেখানে আসে। অব্যবস্থাপনার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

কেএসআরএম এর কর্মকর্তা মো. রফিক জানান, তাদের কোম্পানির পক্ষ থেকে সকালে দুস্থ-গরিবদের মধ্যে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছিল। এ সময় ইফতার সামগ্রী নিতে আসা লোকজনের হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়। এতে পদদলিত হয়ে নয়জন নিহত হন।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *