বাংলাদেশের ব্যাংকিংসেক্টরে মুনাফা অর্জনের শীর্ষস্থান দখলের পথে সোনালী ব্যাংক

 

বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি সকল ব্যাংকগুলোর মধ্যে মুনাফা অর্জানের শীর্ষে পৌঁছার পথে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে সোনালী ব্যাংক। সে জন্য সব রকম প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ইতোমধ্যে গ্রহণ করেছে ব্যাংকটি। গত অর্থ বছরে সোনালী ব্যাংক রাষ্ট্রায়ত্ব সকল বানিজ্যিক ব্যাংকসমূহের মধ্যে সর্বোচ্চ পরিচালনা মুনাফা অর্জনে সক্ষম হয় এবং সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে পরিচানা মুনাফর অর্জনে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে। সব ঠিক থাকলে ২০১৮ অর্থ বছরে ব্যাংকটি মুনাফা অর্জনে বাংলাদেশের সকল ব্যাংককে ছাড়িয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকটির শীর্ষ কর্মকর্তাগণ।
জানা গেছে, সোনালী ব্যাংকের ২০১৭ সালে ‍‍‌‌“ঘুরে দাঁড়ানোর বছর” হিসেবে যে প্রত্যয় নিয়ে কাজ শুরু করেছিল, সেই প্রত্যয়ে সফল ভাবে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছে ২০১৮ সালে “এগিয়ে যাবার বছর” সত্যিকার ভাবেই সকল সূচকে এগিয়ে রয়েছে এই রাষ্ট্রায়ত্ব বৃহ্ত্তম বানিজ্যিক ব্যাংকটি। ২০১৭ সালে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড রাষ্ট্রায়ত্ব সকল ব্যাংক সমূহের মধ্যে সর্বোচ্ছ ১,১৯৫ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে, দেশের সরকারি ব্যাংকের মধ্যে সর্বোচ্চে এবং সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন যা ২০১৬ সালের তুলনায় ৭৭০ কোটি টাকা বেশী।
২০১৭ সালে নীট মুনাফাতে সোনালী ব্যাংক রাষ্ট্রায়ত্ব সকল ব্যাংকের মধ্যে সবোচ্চ ৭০৯ কোটি টাকা নীট মুনাফা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে, যা গত বছরের চেয়ে ৫৫৭ কোটি টাকা বেশী। ২০১৭ সালের মধ্যে সোনালী ব্যাংকের শতভাগ শাখা কোর ব্যাংকিং কার্যক্রম (সিবিএস)এর আওতায় চলে এসেছে। বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বড় নেটওয়ার্ক সমৃদ্ধ ব্যাংক সোনালী ব্যাংক। এছাড়াও ২০১৭ সালের সোনালী ব্যাংকের ইচালান কার্যক্রম ব্যাপক ভাবে বিস্তৃতি লাভ করেছে। সোনালী ব্যাংক লিমিটেড ২০১৬ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে প্রায় সব ‍সূচকে উন্নতি সাধন করেছে।
২০১৭ সালে ঋণ ও অগ্রীমের পরিমাণ ৩,৮৬৮ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৪২,৩২২ কোটি টাকা উন্নীত হয়েছে। গত বছর সোনালী ব্যাংক উল্লেখ্যযোগ্য হরে আমদারি কার্যক্রম ১,০১,৮১৫ কোটি টাকা বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছে। ২০১৬ সালে ব্যাংকের আমানতের পরিমাণ ১,০৩১৬০.৮২ কোটি টাকা। ২০১৭ সালে ডিসেম্বরে আমানতের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ১,০৬,৪৩১.১১ কোটি টাকা। এছাড়াও ২০১৭ সালে সম্পদ উপার্জনের পরিমাণ বৃদ্ধির হার ৩১৪.২৯ শতাংশ। ২০১৭ সালে ব্যাংকের লোকাসান শাখার পরিমাণ কমে লাভজনক শাখার পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৩০টিতে। সকলের সম্মিলিত উদ্যোগ ও কার্যক্রমে ২০১৮ সালে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড তার কাংখিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষ্ম হবে এবং সাফল্যের নতুন মাইলফলক হিসেবে উন্মোচিত হবে।
সোনালী ব্যাংকের এই ঐতিহাসিক অগ্রযাত্রার বিষয়ে, আমরা আমাদের অর্থনীতির পক্ষ থেকে কথা বলতে চেষ্টা করেছিলাম ব্যাংকটির সিইও ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক উবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদের সাথে। কিন্তু টেলিফোনে তাকে পাওয়া যায়নি। সরাসরি কথা বলতে গেলে, তিনি সময় দিতে পারেননি।
তবে, এবিষয়ে সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান আশরাফুল মকবুল বলেন, সোনালী ব্যাংকের আমানতের পরিমাণ বেড়েছে বলেই আমরা দেশের অনেক গুলো আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিয়ে বাঁচিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের এই অগ্রযাত্রার জন্য সোনালী ব্যাংকের প্রতিটি কর্মচারী নিরলস ভাবে কাজ করে চলেছে। তাদের সহযোগীতায় আল্লাহ’র রহমতে ব্যাংকটিকে আমরা লোকসানের হাত থেকে রক্ষা করে সফলতার পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আমি শুধু বলব, আমরা আমাদের কাজটি ভালো ভাবে করার চেষ্টা করছি। এ ধারা অব্যাহত রাখতে পারলে অবশ্যই আমরা চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছতে সক্ষম হব।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *