গোয়াইনঘাটে পাহাড়ী ঢলে ফের বন্যা ২ শতাধিক গ্রাম পানিবন্দী ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত

 

সিলেট প্রতিনিধি:: সিলেটের সীমান্ত উপজেলা গোয়াইনঘাটে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে পুনরায় ভাসছে প্রায় ২ শতাধিক গ্রাম। পাহাড়ী ঢল ও ধারাবাহিক বৃষ্টির কারণে বন্যার পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সোমবার থেকে বন্যার পানি ধারাবাহিক ভাবে বেড়েই চলছে। ইতিমধ্যে বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে উপজেলার অধিকাংশ ফসলী জমি ও রাস্তাঘাট।

সারী-গোয়াইনঘাট ও সালুটিকর সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সিলেট শহরের সাথে যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। উপজেলার নন্দিরগাঁও ইউনিয়নের রানীগঞ্জ, নন্দিরগাঁও, মানাউরা, কচুয়ারপার, দ্বারিরপার, দ্বারিকান্দি, চৌধুরীকান্দি, বাইমারপার, চলিতাবাড়ী, শিয়ালাহাওর ও লক্ষীহাওর। তোয়াকুল ইউনিয়নের ঘোড়ামারা, লক্ষীনগর, পুর্ব পেকের খাল, চদিবদি হাওর, জামলা কান্দি। ডৌবাড়ী ইউনিয়নের সাতকুড়ি কান্দি, হাতির কান্দি, নিহাইন। আলীরগাঁও ইউনিয়নের বুদিগাঁও, নাইন্দা হাওর। লেঙ্গুড়া ইউনিয়নের লেঙ্গুড়া হাওর, সিটিংবাড়ী, দ্বারিখাই। রুস্তমপুর ইউনিয়নের গুজার কান্দি, বীরমঙ্গল হাওর, বগাইয়াহাওর, পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের সানকিভাংগা হাওরসহ উপজেলার প্রায় ২ শতাধিক গ্রামের মানুষ পানিবন্ধী হয়ে পড়েছেন। গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন গৃহস্থজন।

ইতিমধ্যে বন্ধ হয়েগেছে পাথর কোয়ারী, জাফলং ও বিছনাকান্দি কোয়ারী বন্ধ হওয়ার ফলে বেকার হয়ে পড়েছেন উপজেলার কয়েকহাজার পাথর শ্রমিক। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিক অবস্থায় ৯ টন জিআর চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। এব্যাপারে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিত কুমার পাল জানান, গোয়াইনঘাটে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের প্রচুর পরিমাণ চাল বরাদ্দ রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রতিটি ইউনিয়নে ১ টন করে জিআর চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। অপর দিকে বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম চৌধুরী। তিনি সোমবার সকাল থেকে বন্যাকবলিত বিভিন্ন গ্রাম পরিদর্শন করেন এবং মঙ্গলবার উপজেলার দ্বারিখাই, দ্বারিখেল ও অন্যান্য নিম্নাঞ্চল পরিদর্শন করেন। তিনি উপজেলার চলিতাবাড়ী ও শিয়ালাহাওর গ্রামে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের মধ্যে জি.আর চাল বিতরণ করেন। স্থানীয়রা জানান, পাহাড়ি ঢল প্রতি বছর আমাদের জন্য কাল হয়ে আসে। মাঠের ফসল ভাসিয়ে নিয়ে গিয়ে আমাদের নিঃশ্ব করে দেয়। এবারও যে গতিতে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে, এভাবে পানি বাড়তে থাকলে এর ভয়াবহতা বড় কঠিন হওয়ার আশংকা রয়েছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *