কিশোরগঞ্জ বইছে যেন কান্নার হা হা হা কার।

 

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ কিশোরগঞ্জে একটা স্কুলে SSC Result দেওয়ার দিন সব ছাত্রছাত্রীরা জাতীয় সংগীত গাইবার মত সারি বেঁধে স্কুল মাঠে দাড়িয়ে ছিল আর স্যার ম্যাডামরা ২য় তলায় দাড়িয়ে ছিল। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকার হাতে ছিল SSC পরীক্ষার রেজাল্ট
ম্যাডাম রেজাল্টটা জানাতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন
মনে হচ্ছিল হাজার বছরের সব কষ্ট উনার বুকের ভেতরে স্বজন হারানোর বেদনার মত ছিল।

উনি কান্না জর্জরিত কণ্ঠে জানালেন উনার স্কুল থেকে এই বছর শুধু একটা মেয়েই A+ পেয়েছে সে হলো শারমিন।
সে শধু A+ ই নয় পেয়েছেGolden A+
যে আজকে স্কুলের এই সুনাম বয়ে এনেছে
সেই হতভাগি আর এই দুনিয়াতে নেই।

স্কুল বন্ধ থাকার কারনে অনেকেই জানতে পারেনি।
মেয়েটি গত ১লা মে গঞ্জ থেকে অটো দিয়ে বাসায় আসার পথে
রোড_এক্সিডেন্ট এ মারা যায়।
কথাগুলো বলার সময় মনে হচ্ছিল, মেয়েটি উনার ছাত্রী নয়,
যেন নিজের মেয়ের মৃত্যুর কথা বলছেন সে।
দেখলাম সারি বেধে দাড়ানো প্রতিটা ছেলে মেয়ের চোখ ভিজে
গাল বেয়ে পানি পরতে পড়তাছে অনেকে দাঁড়ানো থেকে মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়েছে সবাই হাউ মাউ করে কান্না শুরু করে দিলো।

নিজেরা A+ পায় নাই, সেই দু:খে নয়,
স্কুলের সব চেয়ে বড় সম্পদটাই
হারিয়ে ফেলেছি নিজের সাথের বন্ধুকে, সহপাঠিকে খেলার সাথীকে
হারিয়ে ফেলেছি এক মেধাবী ছাত্রীকে,
যার বাবা কিনা গুদারা ঘাটের মাঝি
নাই বাড়িতে পড়ার টেবিল নাই
ভালো স্যার এর কাছে পড়ার সামর্থ্য।

সেই ১ কি.মি. দূর থেকে হেটে আসতো স্কুলে
যে কিনা মাজে মধ্যে ফেরিঘাটে পানি বিক্রি করেও JSC তে A+ পেয়েছিলো
যেটা ছিলো সেই নতুন স্কুলের প্রথম কারো A+ পাওয়া
যার জন্য এই স্কুলের নামের পাশে বসাতে পেরেছিলো A+ সহ ১০০% পাশ সেই আজ দুনিয়াতে নেই

JSC এর মত আজ SSC তেও কেউ A+ পায়নি,
কিন্তু যে পেয়েছে সে আজ না ফেরার দেশে।

এই কথা গুলা যখন ম্যাডাম আবেগাপ্লুত হয়ে বলছিলেন জানিনা কিভাবে যেন
চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি।

কত কষ্টে সে
লেখাপড়া করছে ভাবা যায়
সব স্বপ্ন ভেঙে গেছে তার ও তার বাবার।
আমাদেরই যদি এতটা খারাপ লাগে তাহলে ভেবে দেখুন তো শারমিনের বাবার কেমন লাগছে।
একজন মেধাবিনীকে এভাবে হারানোটা কতটা কষ্টের তার প্রকাশ চোখের জল ধরে রাখতে পারছে না কেউ
সোনায় মোড়ানো সন্তান জন্ম দিয়েছো বলে মা তোমায় সালাম।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *